ranna o rup: 2013

Monday, March 4, 2013

রূপচর্চায় কমলালেবু

কমলালেবুঃ রূপ চর্চার ক্ষেত্রে কমলালেবু গুণ অপরিসীম । কমলালেবুর খোসা গুঁড়া করে তার সঙ্গে চালের গুঁড়া , কমলালেবুর রস  ও গোলাপ জল এক সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের মরা কোষ

Sunday, March 3, 2013

রূপচর্চায় গোলাপ

গলাপঃ রূপ রক্ষায় গোলাপের ভূমিকা  অপরিসীম । গোলাপের পাপড়িতে যেমন রয়েছে আদ্রতা জগানর ক্ষমতা তেমনই রয়েছে দূষণ থেকে ত্বক বাঁচানোর ক্ষমতা । যারা প্রতি দিন গোলাপ পাতা জোগাড় করতে পারেন না তারা গোলাপ জল সে ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন । ঘামের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে মূলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপ পাতা বাটা বা গোলাপ জল এক সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে গোসলের আগে সারা শরীরে লাগালে ঘাম কম হবে । ৯/১০ টা গোলাপ পাতা গোসলের পানিতে ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ পর গোসল করলে ত্বক হয়ে উঠবে সতেজ ও সজিব । গোলাপ পাটা কয়েক দিন পানিতে ভিজিয়ে রেখে রস বের করে সেই পানি টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন । এ ছাড়া গোলাপের পাপড়ি মিহি করে বেটে সাদা পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে মিশিয়ে সারা রেখে পর দিন লিপ বাম হিসেবে ব্যাবহার করতে পারেন ।

রূপচর্চায় শসা

শসাঃ রূপচর্চার ক্ষেত্রে শসার উপকারিতা অপরিসীম । শসার রসের সঙ্গে সমপরিমাণ গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে টোনার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন । চোখের কালি দূর করতে শসা চাক চাক করে কেটে চোকের উপর দিয়ে ১৫ মিনিট শুয়ে থকুন । এ ছাড়া যাদের ত্বকে ব্রনের সমস্যা আছে তারা নিম পাতা বাটার সঙ্গে শসার রস , গোলাপ জল লং চন্দনের গুঁড়া এক সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগান ব্রন দূর হবে এবং সঙ্গে দাগ পড়বে না । শসার রস ও লেবুর রস সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে লাগালে প্রাকৃতিক ব্রিচের কাজ করবে ।

চোখের কালি

অনেক সময় ঠিক মতো ঘুম না হলে চোখের নিচে কালচে দাগ পরে । এই দাগ থেকে মুক্তি পেতে হলে নিচের টিপস মেনে চলুন ।
* চোখের কালি দূর করতে শসা বা আলু চাক চাক কেটে চোখের উপর দিয়ে ১৫ মিনিট শুয়ে থাকুন। এভাবে ৫/৬ দিন ব্যবহার করুন । আস্তে আস্তে কালি কমে যাবে ।
* চোখের ক্লান্তি দূর করতে এবং চোখের কালি দূর করার জন্য ঠাণ্ডা চায়ের লিকার তুলার মধ্যে নিয়ে চোখের উপর দিয়ে ১০/১৫ মিনিট রেখে নিবেন ।
* টমেটোর রস , লেবুর রস ও বেসন লাগিয়ে শুকানোর আগে ঘষে ঘষে তুলে পেলুন । এভাবে ব্যবহার করলে কালি কমে যাবে ।
* লেবুর রস এক টেবিল চামচ , টমেটোর রস এক টেবিল চামচ , এক চিমটি হলুদের গুঁড়া এবং এক চিমটি ময়দা মিশিয়ে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন । তার পর ধুয়ে পেলুন । ৭ দিনের মধ্যে চোখের কালি চলে যাবে । ধন্যবাদ সবাইকে ।

রূপচর্চায় কলা

কলা এমন একটি ময়েশ্চারাইজিং এজেন্ট যা ত্বকের কোনও ইরিটেশন সৃষ্টি করে না এবং এটির প্রভাব থাকে অনেক দিন ।
* একটি কলা কেটে তার সঙ্গে মধু , লেবুর রস ও দুধ এক সঙ্গে মিশিয়ে মুখে এবং হাতে ও পায়ে লাগালে ত্বকের রুক্ষতা দূর হবে এবং ত্বকে বি-চের ও কাজ করবে । এই মিশ্রণ চুলে লাগালে যাদের ক্যামিকাল ট্রিটমেন্টের কারনে চুল রুক্ষ হয়ে গেছে তাদের চুলের রুক্ষতা দূর হবে এবং চুলে কন্ডিশনারের কাজ করবে ।
* বাইরে রোদে ঘুরলে ত্বকে রোদে পোড়া ভাব হতে পারে , ধুলাবালু জমতে পারে । এই জন্য পাকা কলা চটকে নিয়ে মুখে মাখতে পারেন ।
* পাকা কলা , লেবুর রস ও মধু মুখে এক সঙ্গে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে পেলুন । এতে ভালো উপকার পাবেন ।
* অর্ধেক পাকা কলা , দুই চা চামচ মধু ও এক চা চামচ চন্দনের গুঁড়া ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুবেন । এতে কালো ছোপ দূর হবে ।
* পাকা কলা , কাঁচা দুধ ও টক দই ১০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন ।
* তরমুজ , পাকা কলা , সয়াবিনের গুঁড়া , ময়দা ও চালের গুঁড়া ১০ মিনিট মুখে লাগিয়ে  রাখুন ।
* পাকা কলা চটকে ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে ধুয়ে পেলুন । এতে ত্বক টানটান লাগবে ।

ফলের সালাদ

উপকরনঃ একটি বড় সাইজের আপেল , তরমুজ এক কাপ টুকরো করে কাটা , পেয়েরা এক কাপ টুকরো করে কাটা , নাশপাতি এক কাপ টুকরো করে কাটা , আঙ্গুর ১/২ কাপ , বেদানা ১/২ কাপ , কমলা একটা , লেবুর রস এক টেবিল চামচ , বিট লবণ আন্দাজ মতো , টক দই দুই টেবিল চামচ , গোলমরিচ গুঁড়ো ১/৪ চামচ ।
প্রণালীঃ সব উপকরণ একত্রে ভালো করে মিশিয়ে কিছু  ক্ষণ রেখে পরিবেশন করুন ।

সেমাই ডিলাইট

উপকরণঃদুধ দেড় লিটার , সেমাই দুই কাপ , ঘী পৌনে এক কাপ , চিনি এক কাপ , ডিম তিনটি , কর্ণফ্লাওয়ার এক টেবিল - চামচ , দারুচিনি দুই-তিন টুকরা,এলাচ চারটি ,কিশমিশ ও বাদাম প্রয়োজন মতো ।
প্রণালিঃ সেমাই ঘি য়ে হালকা ভেজে নিতে হবে । এরপর দুধ একটু ঠাণ্ডা করে ডিম ভালোভাবে বিট করে দুধের সঙ্গে  মেলাতে হবে । ডিম মেশানো দুধ কম আঁচে জ্বালে রেখে কমিয়ে ফেলতে হবে । এই ঘন দুধ থেকে এক কাপ পরিমাপ আলাদা সরিয়ে রাখতে হবে ক্রিম বানানোর জন্য । এরপর বাকি দুধে ভাজা সেমাই মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে । একটা বাটিতে সেমাই ঢেলে তার ওপর বাদাম ও কিশমিশ বিছিয়ে দিতে হবে । আলাদা করা দুধে কর্ণফ্লাওয়ার মিশিয়ে ক্রিম বানাতে হবে। সেমাইয়ের ওপর ক্রিম ঢেলে পরিবেশন করুন ।

রুপমন্ত্র

প্রসাধনী ব্যবহার করেই নয় , হাতের কাছে বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে ও কিন্তু যত্ন নিতে পারেন ।
* আধ টুকরা পাকা কলা নিন । ভালোভাবে চটকে নিয়ে এতে কয়েক ফোঁটা শসার রস মেশান । মুখে , গলায় লাগিয়ে রুখুন আধ ঘণ্টা । এর পর ধুয়ে ফেলুন ।
* মধু আর কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন পনেরো মিনিট । মধু যখন আপনার ত্বক উজ্জ্বল করবে , লেবুর প্রাকৃতিক বি - চিং গুণ ত্বককে করবে আরও ফর্সা ।
* ঘরে পাতা দই অথবা কাঁচা দুধ বেসন আর গুঁড়ো চিনির সঙ্গে মিলিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে গোসলের আগে সারা গায়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট বসে থাখুন । তার পর ভিজে হাতে ঘষে ঘষে গা থেকে তুলে নিন । এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হবে ।
* অনেক সময় পিগমেন্টেশন প্রবলেমের জন্য গায়ের রঙ কালো হয়ে যেতে পারে । সে ক্ষেত্রে এক চামচ বেসন , এক চামচ পাকা আমের শাঁস , আধ চামচ হলুদ বাটা , এক চামচ গাঁদা ফুলের পাপড়ি কাঁচা দুধ দিয়ে মিশিয়ে গোসলের আগে লাগাতে হবে এমন জায়গায় যেখানে বেশি পিগমেন্টেশন হয়েছে । এটি গোসলের ৩০ মিনিট আগে লাগাতে হবে ।
* যদি আপনার ত্বক মিশ্র হলে ত্বকের রঙ আরও উজ্জ্বল , ফর্সা করতে অর্ধেক শসা কুচি , দুই চা চামচ মিল্ক পাউডার , দুই চা চামচ তাজা পুদিনা পাতা এক সঙ্গে মিশিয়ে গলা ও মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন । ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে পেলুন ।

বিউটি টিপস

ত্বক ফর্সা বা কালো হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে মেলানিনের উপর । এর আধিক্য বেশি হলে গায়ের রঙ কালো আর কম হলে ফর্সা হয়ে থাকে । তবে প্রাকৃতিক কিছু উপাদানে রয়েছে  এনজাইম ও হরমোন যা ত্বকের কোষ সুস্থ করে ত্বককে করে তলে উজ্জ্বল । ত্বকের রঙ ফর্সা করতে মখে নিয়মিত ব্যাবহার করতে হবে ।
* মুখে দই লাগাতে পারেন । ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন । সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন এই ভাবে লাগাতে হবে ।
* নিয়মিত দুধ দিয়ে মুখ মুছলেও ত্বক ফর্সা হয় ।
* অয়েলি স্কিনের জন্য লেবুর রস ও ডিমের সাদা অংশ সমপরিমাণে মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন । ত্বক উজ্জ্বল না হয়ে পারেই না ।
* সারা গায়ের রঙ উজ্জ্বল করতে বেসন , দই আর সামান্য হলুদ মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন । গোসলের সময় সাবানের পরিবর্তে এটি নিয়মিত ব্যাবহার করুন ।
* শুষ্ক ত্বকের জন্য দু ' চা চামচ কাঁচা দুধ , আলুর রস ঠাণ্ডা করে ব্যাবহার করুন ক্লিনজার হিসাবে । যাদের ত্বক তৈলাক্ত , তারা মুগের ডাল গুঁড়ো সামান্য পানিতে মিশিয়ে প্রত্যেক  সপ্তাহে একদিন করে মুখ স্ক্রাব করুন , এটি ত্বকের উপরের মরা কোষের পরত দূর করবে । ধন্যবাদ ।